বুধবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৭

সমুদ্র যদি পুরোটাই সারাব হতো ,তো ভেবে দেখো কত ফাসাদ হতো .

সমুদ্র যদি পুরোটাই সারাব হতো ,তো ভেবে দেখো কত ফাসাদ হতো .
গুনাহ না হতো , শুধু সওয়াব হতো , তো ভেবে দেখো কত ফাসাদ হতো 
কার মনে কি লুকিয়ে আছে , একমাত্র সৃস্টিকর্তাই জানেন
হৃদয় যদি বেপর্দা হতো , তো ভেবে দেখো কত ফাসাদ হতো 
নিশ্চুপ থাকার অভ্যাস ছিল আমার, যা কিছু বৎসর যাবৎ শুনে এসেছি 
আমার মুখে যদি উত্তর থাকতো , তো ভেবে দেখো কত ফাসাদ হতো 
আমি ভালো ছিলাম , তবুও তার চোখে সর্বসময় খারাপ আখ্যায়িত হতাম 
আমি যদি সত্যিকার অর্থেই নিকৃষ্ট হতাম , তো ভেবে দেখো , কত ফাসাদ হতো

সমুদ্র যদি পুরোটাই সারাব হতো ,তো ভেবে দেখো কত ফাসাদ হতো .
সমুদ্র যদি পুরোটাই সারাব হতো ,তো ভেবে দেখো কত ফাসাদ হতো .


কবিতা টি পাকিস্তানি উর্দু কোনো কবির , অসাধারণ একটা কবিতা , মর্মার্থ এবং গভীরতা বিশ্লেষণ করলে কবিতা টি বার বার পড়তে ইচ্ছে করে , আমার অত্যান্ত ভালো লাগলো তাই এর বঙ্গানুবাদ করলাম , 
সামনের দিনগুলোতে আরো কিছু কাজ করার ইচ্ছে আছে , আশা করি। .....

নিবেদক 
তানভীর আলম খান 
সমুদ্র যদি পুরোটাই সারাব হতো ,তো ভেবে দেখো কত ফাসাদ হতো .



বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

অটো হ্যান

অটো হ্যান - 
জন্ম-১৮৭৯
মৃত্যু -১৯৬৮ 

 অটো হ্যান ছিলেন জার্মান রসায়নবিদ। উদ্ভূত রেডিও কেমিস্ট্রি অন্যতম পথিকৃত। ১৯৪৪ সালে নোবেল পুরস্কার জেতেন অটো, নিউক্লিয়ার ফিস্যন উদ্ভাবন এর জন্য। সর্বকালের সেরা রসায়নবিদ হিসাবে তিনি পরিগণিত। নিউক্লিয়ার কেমিস্ট্রি জনক বলা হয় তাকে। 

জীবন্দসায় তার প্রাপ্ত পুরস্কার সমূহ - * ১৯১৫ সালে আইরন ক্রস (জার্মান )
                                                   * ১৯১৬ তে  জেনারেল হনার 
                                                   * কিংডম অফ প্রুসসিয়া এর নাইট অফ রয়াল হাউস -১৯১৭
                                                   * কিংডম অফ সাক্সনি পুরস্কার


বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৫

গণমাধ্যমের খোলা চিঠি -২

গণমাধ্যমের খোলা চিঠি -২

তানভীর আলম খান


তিনি আমার দূর সম্পর্কের মামা। সরাসরি রাজনীতি করেন। তবে বর্তমানে তিনি ক্ষমতায় নেই। যতদুর জেনেছি রাজনীতির কারণে অনেক প্রতিপক্ষ তৈরী হয়েছে তার। তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান গণমাধ্যমে সংবাদ হবার মত নয়। আচমকা একদিন তাকে পুজিবাদী ও ব্যবসায়িক টেলেভিসন চ্যানেল এ দেখি। অপরাধ বিষয়ক অনুষ্ঠানের মূল উপজীব্য তিনি।

প্রথমে খটকা লাগে ,তারপর পুরো ঘটনাটি অনুধাবনের চেষ্টা করি।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক তাকে সরাসরি হত্যাকান্ডে জড়িত বলে প্রচার করছিলেন। পরবর্তিতে ময়নাতদন্ততে বেরিয়ে আসে ভিকটিম নিজে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তখন আমার অনুসন্দিত্সু মনে বেশ কিছু প্রশ্ন উদিত হয়। তাহলে কেন কভারাজে আনা হলো তাকে । তিনি  কোনো হোমরা চোমরা রাজনীতিবিদ নন।  তবু  তাকে কয়েকদিন ফলাও করে প্রচার করে টেলিভিসন চ্যানেলটি। পরে জানতে পারি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এর নিকট হতে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাকে হয়রানি করার কন্টাক্ট টি নিয়েছিল তথাকথিত সে সাংবাদিক কম উপস্থাপক।  আমার সে মামা নিজেও ২ লক্ষ দিয়েছিলেন সেই ভদ্রলোক কে তার বিরুদ্ধে এমন অনুষ্ঠান প্রচার না করার জন্য।  তাতেও শান্ত হননি সেই সাংবাদিক।

আমার সুযোগ হয়েছিল সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনী 'র (পটুয়াখালী ) সাক্ষাতকার নেয়ার। তিনি শিকার হয়েছিলেন  কর্পোরেট হলুদ সাংবাদিকতার। তিনি সাক্ষাত্কারে একটি ইংরেজি শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন  " ভেস্টেদ গ্রুপ "
যাকে হিন্দি মাফিয়া ভাষায় বলা হয় সুপারি।

কয়েকদিন আগে শুনতে পেলাম ঐ হলুদ সাংবাদিকের নামে মামলা হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমের দুর্নীতি নিপাত যাক।


বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার , আমার অভিজ্ঞতার দিনলিপি -১

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার , আমার অভিজ্ঞতার দিনলিপি -১


 রুমি রায় চৌধুরী , (ফরাসী দৈনিক লে ফিগারো তে  কর্মরত আলোকচিত্রী )


লাইন ধর ,কথা কম। ফাইল এ ববি ,নড়াচড়া বন। ঘন্টা খানেক ,তারপর চেক,সেখান থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো আমদানি তে। আমদানি হলো সদ্য হাজতিদের স্থান। বলতে ভুলে গিয়েছিলাম ,গারদ থেকে মাহুতটুলির আসতে হয়েছে যে গাড়িতে সেই প্রিসন ভানে ৬০ জন হব আমরা। তার ঘোর তখন পর্যন্ত কাটেনি।

আমদানিতে আসার পর জ্ঞান দিলেন একজন সিনিয়র কয়েদী। ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলেন কোনরকম নিয়ম বহির্বূত কাজ চলবে না এখানে। একজন কারারক্ষী বললেন  "জায়গা -সম্পত্তি বেইচা বাইর হইতে হইব " । তার আগে তাজমহল দেখানো হলো আমাদের। তাজমহল সম্পর্কে বলি তাজমহল একটি শিল্প -কর্ম  যা অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ,শিল্পকর্মটি তৈরী করেছেন ২ কয়েদী যারা সম্পর্কে পিতা -পুত্র।

মিথ্যে বলবোনা ,আমদানিতে আমাদের আপায়ান করা হয় ভাজা মাছের একটি টুকরো দিয়ে। রাত্রে ঘুমাতে যেয়ে টের পাই ,বেশ কঠিন রকম গাদাগাদি। কোনভাবে রাত টা পার করতে হবে। সেখান থেকে একটা বিষয় শিখেছিলাম সিগারেট হলো ফার্স্ট কারেন্সী ইন জেল। সিগারেট এ  প্রায় সব হয় এখানে।

ফজর হওয়ার আগে , যে যে নামাজ পরবে তাদের জন্য দুবার সতর্ক ডাক দেয় কারারক্ষী রা।
সকাল হওয়ার সাথে সাথে টেবিল এ বসেন কর্মকর্তা। সবার পরিচয় জেনে কার্ড তৈরী করেন তিনি। আমার "মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান " সুরত দেখে তিনি আমার সাথে ভালো ব্যবহার করলেন। জানতে চাইলেন শারীরিক কোনো আঘাত পেয়েছি কিনা।
সাফ জানালাম  ,না

কার্ড তৈরী হলো। তার পর লোটা -কম্বল এর জন্য লাইন এ দাড়াতে হলো । তখন পর্যন্ত আমি গন্তব্যহীন। শুধু ফ্যাল -ফ্যাল করে মানুষের দিকে চেয়ে থাকি। কিছুই জানি না , পরিবেশ টাও কেমন জানি। তখন শুধু আব্বা -আম্মার কথা মনে পরছিল আর সময় পেলেই কানতাম।

চলবে ............................................

  

শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৪

গণমাধ্যমের খোলা চিঠি -১

সংবাদ কি ,সংবাদ কি রকমের ভূমিকা পালন করে আমাদের সমাজে। এক প্রকারের খোজ করার জায়গা থেকে ছোট একটি বিশ্লেষণ লেখা তৈরী করার চেষ্টা করছিলাম। সংবাদ এক প্রকারের যোগাযোগ , সংবাদ শুধু  টেলিভিসন এর পর্দায় বা দৈনিক সংবাদ পত্রে প্রকাসিত হয় না। সংবাদের ব্যাপ্তি ২৪ ঘন্টাময়। লোকমুখে শোনা কারো মৃত্যুর খবর কেউ আমরা সংবাদ বলতে পারি। সংবাদের বস্তুনিস্ততা নিয়ে আমাদের আলোচনা। সমসাময়িক গণমাধ্যম আমাদের সংবাদ প্রাপ্তির একমাত্র আস্থাস্থল। দেশ বিদেশের সংবাদ আমরা সহজে পেয়ে যাই ইন্টারনেট এর কল্যাণে।

গণমাধ্যম  কেমন , কি তার অভ্ভন্তরীণ  মতাদর্শ  তা আমাদের জানা প্রয়োজন। তাহলে আমরা সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা জানতে পারব। বরেণ্য সাংবাদিক তুষার আব্দুল্লার প্রকাশিত "গণমাধ্যম কার মাধ্যম " বই তে লিখেছেন

"কার হয়ে কাজ করছেন তারা ? পাঠক ,দর্শক ,শ্রোতা  কাছে যে খবরটি তুলে ধরছেন তা কতটা সঠিক ,নাকি কর্পোরেট এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন তারা"। 




বানিজ্যিক মানদন্ড , সংবাদ এর মানদন্ড হতে পারে না। অমুক ব্যাঙ্ক সংবাদ শিরোনাম  বলে যা প্রচারিত হয় তার অন্তনিহিত মন্ত্র কি ? ব্যবসা নয় তো ? সংবাদ মাধ্যম জনগনের চোখ ও কান। এ বিষয়ে বানিজ্যিক করণ নীতি পরিহার একমাত্র সমাধান। পুজিবাদী মনোভাব যেন গিলে না ফেলে জনগনের ভরসাস্থল।  কর্তৃপক্ষ বিষয় টি নিয়ে ভাববেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। নাইমুল ইসলাম খান সাহেবের "সাংবাদিকতার প্রথম পাঠ " বইটি থেকে একটি উক্তি দিয়ে শেষ করতে চাই 

"বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটেছিল সাংবাদিকতার ইতিহাসের বিকাশের অংশ হিসাবেই "

লেখক ------ আইন ছাত্র (৩য় বর্ষ )
                   ফ্রিল্যান্স সংবাদ কর্মী 
                   সহকারী মুখপাত্র ( বাংলাদেশ 'ল' এসোসিয়েশন, ছাত্র উইং )

বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৪

শহীদ বুদ্ধিজীবী এস ,পি মুন্সী কবিরউদ্দিন আহমেদ


শহীদ বুদ্ধিজীবী এস ,পি মুন্সী কবিরউদ্দিন আহমেদ 





কুমিল্লার পুলিশ সুপার মুন্সী কবিরউদ্দিন আহমেদ ১৯৭১ সালে ২৩ মার্চ গোয়েন্দা সুত্রে জানতে পেরেছিলেন পাকিস্তানি আর্মি পুলিশ লাইন আক্রমন করবে। দৃঢ় চিত্তে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ ছিলেন পুলিশ লাইন পাকিস্তানিদের কন্ট্রোলে যেতে দিবেন না। পুলিশ লাইন এর অস্ত্র -গোলাবারুদ  কোনোভাবেই যেন পাকিস্তান আর্মির করায়ত্ত না হয়।
২৩ মার্চ পাকিস্তানি আর্মি হামলা করেনি। পাকিস্তানি সেনা আক্রমন চালায় ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে।  শহীদ বুদ্ধিজীবী এস,পি মুন্সী কবিরউদ্দিন কুমিল্লা পুলিশ লাইন এ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর যুদ্ধাস্ত্রর বিপক্ষে টিকতে পারেনি তার প্রতিরোধ ইউনিট। ভোরের দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইন  দখল করে নেয় পাকিস্তানি সেনারা।

অসংখ পুলিশ সদস্য কে হত্যা করা হয়। ২৬ মার্চ  সকালে পাকিস্তানি সেনা বাহিনী শহীদ বুদ্ধিজীবী এস ,পি মুন্সী কবিরউদ্দিন আহমেদের সরকারী বাসভবনে হানা দেয়। স্ত্রী ,বৃদ্ধ মা ,পাচ সন্তানের আহাজারি পাকিস্তানি সেনাদের আটকাতে পারেনি। মুন্সী কবিরউদ্দিন এর বৃদ্ধ মা তাকে বুকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। মাকে তিনি বলেছিলেন "মা ,আমি এক্ষুনি চলে আসবো ,তুমি চিন্তা করোনা "

এটাই তার শেষ যাওয়া , তিনি আর ফিরে আসেননি। তার লাশ পাওয়া যায় নি। ২৬ মার্চ কুমিল্লার ডি ,সি  এবং এস, পি  কে হত্যা করা হয়।


শহীদ বুদ্ধিজীবী সুখরঞ্জন সমদ্দার

শহীদ বুদ্ধিজীবী সুখরঞ্জন সমদ্দার 



জন্ম :ইলুহার গ্রাম ,বরিশাল

স্থানীয় বাইশারী স্কুল থেকে ১৯৫২ সালে মেট্রিকুলেসন। বরিশাল বি ,এম কলেজ থেকে আই ,এ পাস করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে সংস্কৃতে (অনার্স ) পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংস্কৃতে এম,এ ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৫৮-১৯৫৯ সালে গোপালগঞ্জ কলেজ এ অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৬০ এ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত অনুষদের লেকচারার পদে যোগদান।  
সুখরঞ্জন সমদ্দার মুক্ত চিন্তার মানুষ ছিলেন। অসাম্প্রদায়িক চিন্তার চেতনার কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খ্যাতি অর্জন করে ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি রবীন্দ্র ও নজরুল সঙ্গীত চর্চা করতেন।

১৯৭১ এর ১৪ ই এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়াটার থেকে পাকিস্তানি ফোর্সেস সদস্যরা  তাকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি আর ফিরে আসেন নি।